২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ।। ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রিপোর্টারের নাম : সাইফুল ইসলাম জুলহাস, বরগুনা:
  • আপডেট টাইম : ১১ জুলাই- ২০২০, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
  • 307 দেখা

একটা সময় ছিল যখন ঢাকা থেকে বরগুনা অথবা বরগুনা থেকে ঢাকায় আসতে প্রায় দুপুর হয়ে যেত। আর শীতকালে কুয়াশাজনিত কারন কিংবা প্রাকৃতিক দূর্যোগ থাকলে তো কথাই নেই। তাছাড়া প্রায়ই লঞ্চগুলোর ইঞ্জিনজনিত সমস্যা লেগেই থাকতো। লঞ্চগুলোতে কেবিন নামে যে জায়গাটা ছিল, তা ছিল বেশ অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন। মনে পরে সেদিনগুলোর কথা? কত আন্দোলন কত যাত্রী অসন্তোষ এ নিয়ে? কি? মনে পড়ছে? সেই সময় এখন আর নেই। পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে ঢাকা-বরগুনা রুটে।

আর এই পরিবর্তনের প্রবর্তক এম.কে শিপিং লাইন্স। অনলাইন কেবিন বুকিং সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আধুনিক ও বিলাস বহুল কিছু নৌযান যুক্ত করে বরগুনা রুটের জৌলুশ ফিরিয়ে আনে এমকে শিপিং লাইন্স। এরই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের বহরে যুক্ত করতে যাচ্ছে আরো একটি সম্পূর্ণ নতুন ঝকঝকে প্যাকেট নৌযান এমভি রাজারহাট বি। নৌযানটি আকারের দিক দিয়ে না হলেও, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা আর সুযোগ সুবিধার দিকে দিয়ে টেক্কা দিতে পারে ভিআইপি রুট হিসেবে পরিচিত বরিশাল রুটের সিংহভাগ লঞ্চকেই। ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ফ্রন্টডেক, লোয়ারডেক, করিডোর কোথাও কমতি রাখতে নারাজ লঞ্চ কতৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, স্পীডেও কমতি না রাখতে নৌযানটিতে ব্যবহৃত হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রোপালশন সিস্টেম। এছাড়াও নির্বিঘ্ন যাত্রী সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নৌযানটির মাস্টার ব্রীজে থাকবে- রাডার, জিপিএস, ভিএইচএফ, ইকো সাউন্ডার, হাইড্রলিক স্টিয়ারিং, সহ আরো বেশকিছু আধুনিক নেভিগেশন ইকুইপমেন্ট। নৌযানটিতে আরো একটু ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে বা বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বাংঙ্কার বেড। নৌযানটির লোয়ার ডেকের পুরোটাই বাংঙ্কার বেড বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। তবে প্রাথমিক অবস্থায় বাংঙ্কার বেড ছাড়াই সার্ভিসে আসবে নৌযানটি। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুসারে স্থাপন করা হবে বাংঙ্কার বেডগুলো।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে নৌযানটির শেষ পর্যায়ের কাজ চলমান রয়েছে। ইন্টেরিয়র ডিজাইন, লাইটিং, পেইন্টিংয়ের, কাজ সহ সমস্ত কাজ প্রায় শেষের দিকে। আশা করা যাচ্ছে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঈদের আগেই সার্ভিসে আসবে নৌযানটি।

 একনজরে দেখে নেই এমভি রাজারহাট বি নৌযানটি সম্পর্কে কিছু তথ্য।

🔸নৌযানের নামঃ এমভি, রাজারহাট-বি (প্রস্তাবিত)
🔸অপারেটরঃ এমকে শিপিং লাইন্স।
🔸রুটঃ ঢাকা-বরগুনা-ঢাকা (সম্ভাব্য)
🔸নৌযানের দৈর্ঘ্যঃ ২২০ ফুট (প্রায়)
🔸নৌযানের প্রস্থঃ ৩৪ ফুট (প্রায়)
🔸ইঞ্জিনঃ 6N18A-EN (Yanmar)
🔸ইঞ্জিন ক্ষমতাঃ ১০০০ এইচপি।
🔸ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক দেশঃ জাপান।

তবে বরগুনার স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির জন্য নৌরুটে ভালো এবং উন্নত মানের লঞ্চ সার্ভিস পরিচালনা করতে রাজি হেন না মালিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ সক্রান্ত অন্য খবর
shares